ঢাকা ৩০ জুন, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭১৯ রাজনগরে সড়কে প্রাণ গেল মা-ছেলের তিস্তা প্রকল্পে ঢাকার পাশে বেইজিং, গভীর পর্যবেক্ষণে ভারত দেশে পৌঁছেছে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ একদিনের ব্যবধানে ফের সোনার দামে বড় পতন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, দিশেহারা মানুষ নবম পে-স্কেল: জুলাই থেকেই মিলবে পুরো মূল বেতন ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মাঝরাতে চলন্ত বাসে আগুন মুন্সীগঞ্জে হাসপাতালের ডাস্টবিনের পাশ থেকে নবজাতক কন্যাশিশু উদ্ধার হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিচার শুরু হবে কি না, আদেশ আজ

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি: চাহিদার তুলনায় কোথাও কোথাও ৪২% পর্যন্ত ঘাটতি

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ জুন, ২০২৬,  11:00 AM

news image

জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, আগের দিনের তুলনায় গতকাল সোমবার বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের অন্তত ১৪ জেলায় লোডশেডিংয়ে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।  

জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য বলছে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও লোডশেডিং চলছেই। চাহিদার তুলনায় কোথাও কোথাও ৩০ থেকে ৪২ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়ে গেছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, মৎস্য, পর্যটন ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

গত রোববার সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন কমে যায়। গতকাল সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বন্ধ কেন্দ্র দুটি চালু হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য মতে, গতকাল লোডশেডিং নেমে এসেছিল ৩৩৯ মেগাওয়াটে। 

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, এটা দুপুর ১২টা ও ১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের পরিমাণ। গতকাল সারাদিনের মধ্যে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ভোর ৬টায়, এক হাজার ৬০ মেগাওয়াট। আগের দিন ঘাটতি ছিল তিন হাজার মেগাওয়াট। গতকাল দেশের প্রায় সব বিভাগে কম-বেশি বৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা কমে আসে। এতে লোডশেডিং কম হয়। রাজধানীবাসী এর পূর্ণ সুফল পেলেও ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে কম-বেশি লোডশেডিং হয়েছে।

পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় রোববার রাত ৯টা থেকে গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ ছিল না। 

স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সূত্র জানিয়েছে, সাড়ে ১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৭ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া যায়। এতে ৩০ শতাংশ ঘাটতি রয়ে যায়। এতে হোটেল-মোটেল, বরফকল ও মৎস্য ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবশ্য কুয়াকাটা জোনাল কার্যালয়ের ডিজিএম মোস্তফা আমিনুর রাশেদ দাবি করেন, কয়েক দিন আগের তুলনায় বর্তমানে লোডশেডিং কমেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৪৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে গতকাল মিলেছে মাত্র ৯৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। প্রায় ৩৩ শতাংশ ঘাটতির কারণে শহরে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হয়। গ্রামে আরও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে। নেসকো ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম পাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বরগুনায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ওজোপাডিকোর আওতায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মিলেছে মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। পল্লী বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও ১৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মিলেছে মাত্র ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াট। ফলে অর্ধেকেরও বেশি সময় লোডশেডিং করতে হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে; বরফ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জেলেদের বাড়তি দামে বরফ কিনতে হচ্ছে, কোথাও কোথাও মাছ নষ্ট হচ্ছে।

খুলনায় রোববার রাত থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত কোনো কোনো এলাকায় সাতবার লোডশেডিং দেওয়া হয়। ওজোপাডিকো জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৭৭৩ মেগাওয়াটের বিপরীতে ৬৭৩ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া গেছে। এতে ঘাটতি থাকছে ১০০ মেগাওয়াট।

রাজবাড়ীতে দিনে ৮০ থেকে ৮৫ মেগাওয়াট ও রাতে ৯৫ থেকে ৯৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে প্রায় ৩০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে শহর ও গ্রামে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন অর রশীদ।

বগুড়ায় শহরে প্রায় ১০ শতাংশ ও গ্রামে প্রায় ২০ শতাংশ লোডশেডিং হয়েছে। পিডিবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানান, ৯৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে তারা ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতের মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আলম স্বীকার করেন, গ্রামে গড়ে ২০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

শরীয়তপুরে ১২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সোমবার পাওয়া গেছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট। প্রায় ৪২ শতাংশ ঘাটতির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওজোপাডিকোর সহকারী প্রকৌশলী ইশতিয়াক জহুর।

পিরোজপুরেও ৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে অনেক সময় মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী তুহিন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, গ্রিড থেকে বরাদ্দ কম পাওয়ায় ২৪ ঘণ্টায় অন্তত চার ঘণ্টা করে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

কুমিল্লায় আগের দিন পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ থাকলেও গতকাল কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এলাকায় রোববার ১৩ শতাংশ এবং সমিতি-২ এলাকায় প্রায় ২৫ শতাংশ লোডশেডিং দিতে হয়েছে। কর্মকর্তাদের দাবি, গতকাল বিকেলের পর পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসে।

মৌলভীবাজারে রোববার ৪৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ায় ব্যাপক লোডশেডিং করা হয়। গতকাল ভোর থেকে তিনটি গ্রিডেই চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় লোডশেডিং প্রায় ছিল না।

সিলেটে পিডিবির আওতায় ২৩০ থেকে ২৪৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মিলছে ১৪০ থেকে ১৫৫ মেগাওয়াট। ফলে নগর ও গ্রাম– উভয় এলাকাতেই কয়েক ঘণ্টা করে লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকেই পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, সিরাজগঞ্জ ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায়ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। জগন্নাথপুরে পরিস্থিতির প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সিরাজগঞ্জ শহরে সোমবার নেসকোর আওতায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় লোডশেডিং ছিল না, যদিও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট আছে। সূত্র : সমকাল 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম